Experience YourListen.com completely ad free for only $4 a month. Upgrade your account today!

Upload Cover

AtikIsrak`s Uploads

  • 02. হযরত আদম (আঃ) এর জীবনী (দ্বিতীয় পর্ব)
    02. হযরত আদম (আঃ) এর জীবনী (দ্বিতীয় পর্ব) “অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল, বললঃ হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা” [কুরআন ২০:১২০] শাইতান আমাদের দুর্বল স্থানগুলোর ব্যাপারে অবগত থাকে, আর সেই স্থানেই সে আক্রমণ করে। সে আদমের কাছে কি খোলাখুলি ভাবেই বলে নি যে যাও আল্লাহ্‌কে অমান্য কর, না হলে আদম সেটা কখনই করতো না। সে তাকে বলল, এই গাছ তোমাকে অনন্ত জীবন দেবে, অসীম জীবন দেবে, তোমাকে রাজত্ব দেবে। আদম আর হাওয়া সেই গাছের ফল খেল আর এই কারণে আল্লাহ্‌ তাদের পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন। যখনই আপনি এই আয়াত পড়বেন অথব এই কাহিনী শুনবেন, আপনি কি কখনও চিন্তা করেছেন যে কি করে এমন মহান একজন নবী এই ধরণের ভুল করতে পারেন? কখনও কি ভেবেছেন কি করে? আল্লাহ্‌ তাকে আদেশ দিয়েছিলেন সেটা স্পর্শ না করতে কিন্তু তিনি তার ফল খেলেন। আপনি কি কখনও ভেবেছেন এটা কি করে হল? আমার মনে হয় আপনাদের অনেকেই এই ধরণের চিন্তা রাখেন, যে কি করে? ইনি তো একজন আল্লাহ্‌র নবী!! যাই হোক, সেই সময়ে তিনি তখনও আল্লাহ্‌র নবী হন নি। পরে পৃথিবীতেই তিনি নবী হন। আদম কেন এমনটা করলেন তা না ভেবে আমাদের নিজেদের পাপ আর ভুল করা নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিৎ নয় কি? এটা বোঝা অনেক বেশি কঠিন যে কেন আমরা পাপ করি। কারণ আদমের তো কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা, তিনি শাইতান সম্পর্কে জানতেন না। তার শাইতান সম্পর্কে জ্ঞান থাকলেও অভিজ্ঞতা ছিলনা। অভিজ্ঞতা, জ্ঞানের চেয়ে ভিন্ন। আদম জানতেন শাইতান তার শত্রু, কিন্তু তিনি কখনই তার অভিজ্ঞতা লাভ করেন নি। এমনকি রাসূলাল্লাহ সা. ও বলেছেন, সংবাদ জানা আর দেখা এক নয়। আদমের জ্ঞান ছিল কিন্তু শাইতানের ব্যাপারে কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না। আমরা জানি আদমের সাথে কি হয়েছিল, আমরা জানি শাইতান কি করেছিল। আর আমরা মানবজাতির সুবিশাল ইতিহাসও দেখেছি। আর আমরাই একই ভুল বারংবার করে যাচ্ছি। আমাদের এটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিৎ নয় যে আদম ভুল করেছিলেন। কারণ আদমের জন্যে এটি ছিল একটি নিরপরাধ ভুল। আর আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কারণ আদমের তখন পর্যন্ত কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা। তাই আল্লাহ্‌ চেয়েছিলেন সেটা আদমের জন্যে একটা পরীক্ষা হয়ে যাক, যাতে সে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে। আর এটা আদমের আল্লাহ্‌র নবী হবার জন্যে একটি প্রস্তুতিও হতে পারে। এটি ছিল আদমের জন্যে একটি প্রস্তুতি, আল্লাহ্‌ তাকে প্রস্তুত করছিলেন। ঠিক যেমন আল্লাহ্‌ দাউদ আ. কে একটি ভুলের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে প্রস্তুত করছিলেন আর আমরা সে বিষয়ে কথা বলবো। আল্লাহ্‌ দাউদ আ. খালিফার দায়িত্বের জন্যে প্রস্তুত করছিলেন। আল্লাহ্‌ তাকে একটি বিচারের মধ্য দিয়ে পরিচালিত করেন আর তিনি সেখানে ভুল করে ফেলেন আর আল্লাহ্‌ তার সেই ভুল শুধরে দেন। আর বলেন, যে দাউদ এই ভুলের পর আগের চাইতে উত্তম হয়েছেন। তাই আল্লাহ্‌ আদমকে প্রস্তুত করছিলেন, যাতে তিনি সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান আর শিক্ষা লাভ করেন। আর এটা তাকে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে প্রস্তুত করবে শাইতানকে চেনার জন্য। "পথিকৃৎদের পদচিহ্ন: নবীদের জীবন" লেকচার সিরিজের দ্বিতীয় পর্ব হতে সংগৃহীত।
    AtikIsrak 00:19:36 62 0 Downloads 0 Comments
  • 01. হযরত আদম (আঃ) এর জীবনী (প্রথম পর্ব)
    01. হযরত আদম (আঃ) এর জীবনী (প্রথম পর্ব) “অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রনা দিল, বললঃ হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্তকাল জীবিত থাকার বৃক্ষের কথা এবং অবিনশ্বর রাজত্বের কথা” [কুরআন ২০:১২০] শাইতান আমাদের দুর্বল স্থানগুলোর ব্যাপারে অবগত থাকে, আর সেই স্থানেই সে আক্রমণ করে। সে আদমের কাছে কি খোলাখুলি ভাবেই বলে নি যে যাও আল্লাহ্‌কে অমান্য কর, না হলে আদম সেটা কখনই করতো না। সে তাকে বলল, এই গাছ তোমাকে অনন্ত জীবন দেবে, অসীম জীবন দেবে, তোমাকে রাজত্ব দেবে। আদম আর হাওয়া সেই গাছের ফল খেল আর এই কারণে আল্লাহ্‌ তাদের পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন। যখনই আপনি এই আয়াত পড়বেন অথব এই কাহিনী শুনবেন, আপনি কি কখনও চিন্তা করেছেন যে কি করে এমন মহান একজন নবী এই ধরণের ভুল করতে পারেন? কখনও কি ভেবেছেন কি করে? আল্লাহ্‌ তাকে আদেশ দিয়েছিলেন সেটা স্পর্শ না করতে কিন্তু তিনি তার ফল খেলেন। আপনি কি কখনও ভেবেছেন এটা কি করে হল? আমার মনে হয় আপনাদের অনেকেই এই ধরণের চিন্তা রাখেন, যে কি করে? ইনি তো একজন আল্লাহ্‌র নবী!! যাই হোক, সেই সময়ে তিনি তখনও আল্লাহ্‌র নবী হন নি। পরে পৃথিবীতেই তিনি নবী হন। আদম কেন এমনটা করলেন তা না ভেবে আমাদের নিজেদের পাপ আর ভুল করা নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিৎ নয় কি? এটা বোঝা অনেক বেশি কঠিন যে কেন আমরা পাপ করি। কারণ আদমের তো কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা, তিনি শাইতান সম্পর্কে জানতেন না। তার শাইতান সম্পর্কে জ্ঞান থাকলেও অভিজ্ঞতা ছিলনা। অভিজ্ঞতা, জ্ঞানের চেয়ে ভিন্ন। আদম জানতেন শাইতান তার শত্রু, কিন্তু তিনি কখনই তার অভিজ্ঞতা লাভ করেন নি। এমনকি রাসূলাল্লাহ সা. ও বলেছেন, সংবাদ জানা আর দেখা এক নয়। আদমের জ্ঞান ছিল কিন্তু শাইতানের ব্যাপারে কোন অভিজ্ঞতাই ছিল না। আমরা জানি আদমের সাথে কি হয়েছিল, আমরা জানি শাইতান কি করেছিল। আর আমরা মানবজাতির সুবিশাল ইতিহাসও দেখেছি। আর আমরাই একই ভুল বারংবার করে যাচ্ছি। আমাদের এটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিৎ নয় যে আদম ভুল করেছিলেন। কারণ আদমের জন্যে এটি ছিল একটি নিরপরাধ ভুল। আর আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কারণ আদমের তখন পর্যন্ত কোন অভিজ্ঞতা ছিলনা। তাই আল্লাহ্‌ চেয়েছিলেন সেটা আদমের জন্যে একটা পরীক্ষা হয়ে যাক, যাতে সে সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে। আর এটা আদমের আল্লাহ্‌র নবী হবার জন্যে একটি প্রস্তুতিও হতে পারে। এটি ছিল আদমের জন্যে একটি প্রস্তুতি, আল্লাহ্‌ তাকে প্রস্তুত করছিলেন। ঠিক যেমন আল্লাহ্‌ দাউদ আ. কে একটি ভুলের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে প্রস্তুত করছিলেন আর আমরা সে বিষয়ে কথা বলবো। আল্লাহ্‌ দাউদ আ. খালিফার দায়িত্বের জন্যে প্রস্তুত করছিলেন। আল্লাহ্‌ তাকে একটি বিচারের মধ্য দিয়ে পরিচালিত করেন আর তিনি সেখানে ভুল করে ফেলেন আর আল্লাহ্‌ তার সেই ভুল শুধরে দেন। আর বলেন, যে দাউদ এই ভুলের পর আগের চাইতে উত্তম হয়েছেন। তাই আল্লাহ্‌ আদমকে প্রস্তুত করছিলেন, যাতে তিনি সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান আর শিক্ষা লাভ করেন। আর এটা তাকে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে প্রস্তুত করবে শাইতানকে চেনার জন্য। "পথিকৃৎদের পদচিহ্ন: নবীদের জীবন" লেকচার সিরিজের প্রথম পর্ব হতে সংগৃহীত।
    AtikIsrak 01:32:04 86 0 Downloads 0 Comments
  • ইসলামের ইতিহাস কেন জানব? পার্টঃ (২-২)
    ইসলামের ইতিহাস কেন জানব? পার্টঃ (২-২) কোন জাতিকে যদি ধ্বংস করতে হয় তাহলে দু'টি কাজ করতে হবে। প্রথমত, সেই জাতির অতীত ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে হবে। আর দ্বিতীয়ত, ইতিহাস যদি এতোই গৌরবজ্জল হয় যে, তা মুছা অসম্ভব। তাহলে ইতিহাসকে বিকৃত করে উপস্থাপন করতে হবে। ইতিহাস হল একটি জাতির প্রাণ, আর সেই প্রাণই যদি না থাকে তাহলে মৃত দেহ দিয়ে কি হবে? ধরুন, একজন মানুষ তার অতীত ইতিহাস ভুলে গেছে। এখন সে মধ্য দুপুরে খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে বলছে সূর্য কখনো উঠেনি আবার কখনো অস্ত যাবে না। কারণ সে তার অতীত ইতিহাস জানেনা। কিন্তু যারা অতীত ইতিহাস জানে তারা বুঝেন যে, সূর্য চিরকাল সেখানে থাকবে না। ইতিহাস জানা আর না জানার মধ্যে এটাই পার্থক্য। "ইসলামের ইতিহাস কেন জানব" ২ খণ্ডের লেকচার। এটা শেষ পর্ব। (ক্রেডিটঃ রেইনড্রপ)
    AtikIsrak 00:31:29 63 0 Downloads 0 Comments
  • ইসলামের ইতিহাস কেন জানব ? পার্টঃ (১-২)
    ইসলামের ইতিহাস কেন জানব ? পার্টঃ (১-২) কোন জাতিকে যদি ধ্বংস করতে হয় তাহলে দু'টি কাজ করতে হবে। প্রথমত, সেই জাতির অতীত ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিতে হবে। আর দ্বিতীয়ত, ইতিহাস যদি এতোই গৌরবজ্জল হয় যে, তা মুছা অসম্ভব। তাহলে ইতিহাসকে বিকৃত করে উপস্থাপন করতে হবে। ইতিহাস হল একটি জাতির প্রাণ, আর সেই প্রাণই যদি না থাকে তাহলে মৃত দেহ দিয়ে কি হবে? ধরুন, একজন মানুষ তার অতীত ইতিহাস ভুলে গেছে। এখন সে মধ্য দুপুরে খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে বলছে সূর্য কখনো উঠেনি আবার কখনো অস্ত যাবে না। কারণ সে তার অতীত ইতিহাস জানেনা। কিন্তু যারা অতীত ইতিহাস জানে তারা বুঝেন যে, সূর্য চিরকাল সেখানে থাকবে না। ইতিহাস জানা আর না জানার মধ্যে এটাই পার্থক্য। "ইসলামের ইতিহাস কেন জানব" ২ খণ্ডের লেকচার। (ক্রেডিটঃ রেইনড্রপ)
    AtikIsrak 00:58:17 48 0 Downloads 0 Comments
  • আইন জালুত এর যুদ্ধ
    আইন জালুত এর যুদ্ধ আইন জালুতের যুদ্ধ (যা পাল্টে দিয়েছিল ইতিহাসের গতিপথ) আইন জালুতের প্রান্তর। এটি সেই প্রান্তর যেখানে মঙ্গোলদের অহংকার চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। যেখানে থেমে গিয়েছিল মঙ্গোলদের বিজয় রথ।এ প্রান্তরেই তারা তাদের সমকক্ষ কাউকে খুঁজে পেল আর এই প্রান্তর পরিণত হল ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি নিদর্শন। তাইতো জার্মান প্রফেসর মেয়ার বলেছেন,” তা ছিল ইতিহাসের অন্যতম এক নিষ্পত্তিমূলক সন্ধিক্ষণ; মঙ্গোলদের অপরাজয়েতার উপাখ্যান ভেঙ্গে গেল বরাবরের জন্য, থেমে গেল উত্তর- আফ্রিকা পানে তাদের পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণ প্রয়াস, নিশ্চিত হল ইসলামের চলমান অস্তিত্ব এবং সিরিয়া ও প্যালেস্টাইনে প্রতিষ্ঠিত হল মামলুকরা। এটা সে সময়ের ঘটনা যখন গোটা সভ্য জগতই মঙ্গোলদের হামলায় কেঁপে উঠেছিল।যখন মঙ্গোল নেতা চেঙ্গিস খানের পৌত্র হালাকু খানের নির্মমতা ও নৃশংসতায় তৎকালীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের রাজধানী বাগদাদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, বিলীন হয়ে যায় শত শত বছর ধরে সঞ্চিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভাণ্ডারগুলি।শুধু বাগদাদ নয় একে একে তারা দখল করে নেয় দামেস্ক ও আলেপ্পো নগরী। যেখানে তাদের পৌঁছুবার সম্ভাবনা কম ছিল সেখানেও তাদের ভীতি ছড়িয়ে পড়েছিল। তাই ঐতিহাসিক গীবন তার Decline and fall of Roman empire নামক বিখ্যাত গ্রন্থে লিখেছেন-“সুইডেনের অধিবাসীরা রাশিয়ানদের মারফত মঙ্গোল ঝাঞ্চার খবর শুনে এতটাই ভীত হয়ে পড়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত মঙ্গোলদের ভয়ে তারা তাদের চিরাচরিত অভ্যাস পরিত্যাগ করে ইংল্যান্ডের সমুদ্রকূলে মৎস্য শিকার বন্ধ করে দিয়েছিল।” কোন কিছুই যেন মঙ্গোলদের অগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করতে পারছিল না। Cambridge history of Medieval age নামক বইয়ের লেখকগণ লেখেন, “মঙ্গোলদের আক্রমণ প্রতিরোধ করা ছিল মনুষ্য-শক্তিবহির্ভূত। মরু প্রান্তরের সমস্ত বাধা-বিপত্তি তাদের কাছে হার মানে। পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, সমুদ্র ও আবহাওয়াগত প্রতিবন্ধকতা, দুর্ভিক্ষ, মহামারী কিছুই তাদের যাত্রা পথে বাধার সৃষ্টি করতে পারেনি। যে কোন দুর্গই তাদের আক্রমণের মুখে টিকতে পারত না।নিপীড়িত ও মজলুম কোন আদম-সন্তানের ফরিয়াদই তাদের হৃদয়ে দাগ কাটত না।” কিন্তু মঙ্গোলদের প্রতিরোধ যে মামলুকদের মাধ্যমে হবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারে নি। কারণ তারা পূর্বে ছিল দাস, যারা কিছুকাল পূর্বে মিশরের শাসনভার গ্রহণ করে। তাই তাদের কাছ থেকে এতটা আশা করা যাচ্ছিল না যে, তারা মঙ্গোলদের অগ্রাসনের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। হঠাৎ করেই যেন তখন ক্ষমতার রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হন সাহসী ও বীর সুলতান কুতুয ও তার সেনাপতি বাইবার্স। এই সেই বাইবার্স যিনি পরবর্তীতে সুলতান হয়েছিলেন, যার দুঃসাহসিকতা, ক্ষীপ্রতা, চতুরতা আর বীরত্ব দেখে পশ্চিমা জগত থমকে গিয়েছিল তাই তারা বাইবার্সের নাম দিয়েছিল দ্য প্যান্থার। ১২৬০ সালের বসন্তের শেষের দিকে বাতাস গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা জানিয়ে দিচ্ছিল। সুলতান সায়ফুদ্দিন কুতুয তার কায়রোর প্রসাদে অবস্থান করছিলেন। এসময় তার কাছে পৌঁছল মঙ্গোল যুবরাজ হালাকু এর ভয়াবহ বার্তা।যাতে লেখা ছিলঃ “রাজাদের রাজা মহান খান এর কাছ থেকে থেকে এসেছে এই বার্তা মামলুক কুতুয এর কাছে যে কিনা আমাদের তলোয়ার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পালিয়েছে। তোমরা প্রাচীর ভেঙ্গে আত্মসমর্পণ কর। তাহলে তোমাদের শান্তি দেওয়া হবে আর নাহলে যা ঘটার তাই ঘটবে যা ঘটেছে অন্যান্য দেশে। তোমরা আমাদের সেনাবাহিনীর নির্মমতা থেকে মুক্তি পাবে না। তোমরা কোথায় পালাবে? কোন রাস্তা ব্যবহার করবে আমাদের হাত থেকে পালানোর জন্য? আমাদের ঘোড়াগুলো দ্রুতগামী, তীরগুলো ধারালো, তলোয়ারগুলো বজ্রসম, আমাদের হৃদয়গুলো পাহাড়ের মত কঠিন,আমাদের সৈন্যসংখ্যা বালুর কণার মত অগণিত।কোন দুর্গ আর বাহুবল আমাদের আটকে রাখতে পারবে না। আর ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা আমাদের বিরুদ্ধে কোন কাজে লাগবে না। যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত হওয়ার আগেই ভেবে নাও কি করবে, তোমরা যদি আমাদের প্রতিরোধ করতে চাও তাহলে দুঃসহ বিপর্যয় দেখার জন্য প্রস্তুত হও। আমরা তোমাদের মসজিদগুলোকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলব তখন তোমরা তোমাদের খোদার দুর্বলতা অনুভব করতে পারবে। আমরা তোমাদের শিশু এবং বৃদ্ধদেরকে একত্রিত করে হত্যা করব। বর্তমানে তোমরাই আমাদের একমাত্র শত্রু যাদের বিরুদ্ধে আমার সৈন্যদের মার্চ করা বাকি আছে।” সুলতান তার সভাসদদের কাছ থেকে পরামর্শ চাইলেন। মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে ভয় এবং ক্রোধে দ্বিধা বিভক্ত ছিল কায়রো। অধিকাংশ মামলুক আত্মসমর্পণের পক্ষে ছিল।তারা বলল তাতারদের সাথে তাদের কোন তুলনা হতে পারে না।কিন্তু নির্ভীক সুলতান এ কাপুরুষচিত আত্মসমর্পণের পক্ষে ছিলেন না। তিনি দরাজ কণ্ঠে বললেন-“কেউ যদি আমার সাথে নাও যায় তবুও আমি একাই তাতারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাব।” আর তার সাথে ছিল তার সেনাপতি বাইবার্স। যিনি ছিলেন গোল্ডেন হোর্ড থেকে পালানো একজন তাতার। যুদ্ধ অনিবার্য করতে তিনি মঙ্গোল দূতকে হত্যা করেছিলেন। রুদ্ধ হালাকু খান সৈন্য সমাবেশ করতে লাগল একই সময় সুলতান কুতুয তার পুরানো শত্রুদের সাথে শান্তিচুক্তি করতে লাগলেন। সুলতান বুঝতে পেরেছিলেন মঙ্গোলরা যদি আগে-ভাগেই তার উপর চড়াও হয় তাহলে দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন হবে এবং স্বাধীনতা রক্ষা করা কষ্টকর হবে। অতএব, মিসরের অভ্যন্তরে থেকে আত্মরক্ষার পরিবর্তে সম্মুখে অগ্রসর হয়ে সিরিয়ায় মঙ্গোলদের ওপর আক্রমণাত্মক হামলা পরিচালনা করাকেই তিনি সমীচীন মনে করলেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই হালাকু খানকে ইরানে ফিরে যেতে হয় কারণ মহান খান মঙ্গকি তখন মৃত্যু বরণ করেন।তিনি তার সেনাপতি কিতাবুকার কাছে সেনা বাহিনীর দায়িত্ব দিয়ে ইরানে চলে যান। কিতাবুকা ছিলেন একজন খ্রিস্টান।তাই অনেক ক্রুসেডার নেতারা তার সাথে মিত্র বাহিনী রূপে যোগদান করল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল জেরুজালেমকে আবার তাদের দখলে নেওয়া। ১২৬০ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর(৬৫৮ হিঃ,২৫ রমজান) গাযার কাছে আইন জালুতে উভয় বাহিনীই পরস্পরের মুখোমুখি হয়। মামলুক বাহিনী মুখোমুখি হল কিতাবুকার ডিভিশনের।উভয় পক্ষেই ছিল প্রায় ২০০০০ মত সৈনিক। এ এলাকা সম্পর্কে মামলুকদের ভাল জ্ঞান ছিল।তাই সুলতান কুতুয তার অধিকাংশ সৈনিককে পার্বত্য এলাকায় লুকিয়ে রাখলেন। আর বায়বার্সকে অল্প কিছু সৈনিক দিয়ে মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে মাঠে নামালেন, যাতে মঙ্গোলদের প্রলুব্ধ হয়ে তার ফাঁদে পড়ে। দুই বাহিনীই কয়েক ঘণ্টা নির-বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ করতে লাগল। বায়বার্স তার সৈন্যদের দিয়ে মার এবং সরে পড় এই কৌশলে যুদ্ধ করছিল। তার এ কৌশল অবলম্বন করার কারণ ছিল, প্রথমত মঙ্গোলদের উত্তেজিত করা আর দ্বিতীয়ত তার অধিকাংশ সৈনিককে অক্ষত রাখা।যখন মঙ্গোলরা একটি বড় আক্রমণ শুরু করল তখন বাইবার্স পিছু হটতে লাগলেন। তিনি মঙ্গোলদের সেই পার্বত্য এলাকায় নিয়ে যেতে সক্ষম হলেন যেখানে মামলুক সৈন্যরা গাছ-পালা আর পাহাড়ের আড়ালে ওত পেতে ছিল। বাইবার্স পুরো মঙ্গোল বাহিনীকে মামলুক সৈন্যদের এম্বুসের মাঝে নিয়ে আসলেন।কিতাবুকা বাইবার্সের চাল বুঝতে পারেনি, তাই সে তার সৈন্যদের পলায়নপর বাইবার্সের পিছনে ছুটতে আদেশ দিলেন। যখনই মঙ্গোলরা পার্বত্য এলাকার কাছে গিয়ে পৌঁছল ,তখই মামলুক সৈন্যরা তাদের সামনে আবির্ভূত হল। মামলুক অশ্বারোহীরা তীর ছোড়া শুরু করল। এবার মঙ্গোল সৈন্যরা আবিষ্কার করল যে, মামলুক সৈন্যরা চতুর্দিক থেকেই তাদেরকে ঘিরে রেখেছ। মঙ্গোলরা এবার খুব ভংকরভাবে আক্রমণাত্মক যুদ্ধ শুরু করল। তাদের আক্রমণে মামলুকদের বাম বুহ্য প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, এবার এ পথ দিয়েই মঙ্গোলরা পালানোর রাস্তা খুঁজতে চেয়েছিল। কিন্তু সুলতান কুতুয যখন এ অবস্থা দেখলেন তিনি তার মাথার হেলমেট ছুড়ে ফেলে দিলেন, ফলে তার সৈন্যরা তাকে চিনতে পারল। তিনি তখন তার সৈন্যদের উত্তেজিত করতে সক্ষম হলেন। মামলুক সৈন্যরা এবার যুদ্ধের ময়দানে ভংকররূপে আবির্ভূত হল; ফলে যুদ্ধের মোড় মামলুকদের দিকে সরে আসল। মঙ্গোল সেনাপতি কিতাবুকা নিহত হল আর পরাজয় বরণ করল মঙ্গোলরা। এভাবে “তাতারীদের পরাজয় অসম্ভব”- এই প্রবাদ বাক্য মিথ্যায় পর্যবসিত হয়। আইন জালুতের যুদ্ধের পর বাইবার্স সুলতানের পক্ষ হয়ে মঙ্গোলদের তাড়িয়ে দিলেন জেরুজালেম থেকে।জেরুজালেম মামলুকদের অধিকারে আসল।মামলুকরা মঙ্গোলদের বিতাড়িত করল দামেস্ক এবং আলেপ্পো থেকে।এরপর মঙ্গোলরা আর কখনো এই এলাকায় আসার সাহস দেখায়নি। আইন জালুতের যুদ্ধ বিশ্বের ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাইতো David W. Tschanz বলেছেন- “The clash of Mongol and Mamluk at Ain Jalut was one of the most significant battles in world history, yet it is a rare Western history class that even hears mention of it, even though it was as important for Western civilization as those fought at Marathon, Salamis, Lepanto, Chalons and Tours. Had the Mongols succeeded in conquering Egypt, they would have been able to storm across North Africa to the Straits of Gilbraltar. Europe would have been clamped in an iron ring all the way from Poland to the Mediterranean. The Mongols would have been able to invade from so many points that it is unlikely that any European army could have been positioned to hold them back.” মিশরে ফিরার পথে সুলতান কুতুয নিহত হন, আর ক্ষমতার আসনে অধিষ্ঠিত হন তারই সেনাপতি দ্য প্যান্থার খ্যাত রুকনুদ্দিন বাইবার্স।যার পরবর্তী শাসনকাল ইতিহাস অবাক দৃষ্টিতে অবলোকন করছিল।যিনি ক্রুসেডারদের দুর্গগুলোকে একে একে গুড়িয়ে দিচ্ছিলেন, এসাসিয়ানদের দুর্গগুলো থেকে তাদের উচ্ছেদ করছিলেন, আর্মেনীয় পর্বতারোহীদের আবার নতি স্বীকার করাচ্ছিলেন একই সাথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন এশিয়া মাইনরের দিকে।কিন্তু সেটি আরেক উপাখ্যান…… লেখকঃ অগ্রপথিক। সম্পাদনায়ঃ জানা অজানার পথিক (ক্রেডিটঃ রেইনড্রপ)
    AtikIsrak 01:07:25 70 0 Downloads 0 Comments
  • সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়্যুবী (রহঃ)-এর জীবনী ও জেরুজালেম বিজয়
    সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়্যুবী (রহঃ)-এর জীবনী ও জেরুজালেম বিজয় আসুন কিছু সময় ব্যয় করে শুনি এই অডিও লেকচারটি, এখানে আলোচনা করা হয়েছে ৪৯২ হিজরী, ১০৯৯ ইংরেজি সালে খ্রিস্টান ক্রুসেডারদের দ্বারা আল আকসা মসজিদ দখল ও ফিলিস্তিনে সঙ্ঘটিত নির্মম গনহত্যা সম্পর্কে যেখানে ৭০,০০০ মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছিল, এরপর কিভাবে সালাহ আদ দিন আইয়ুবির নেতৃত্বে মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জিহাদ করলো, এবং চূড়ান্তুভাবে ১১৮৭ সালে হিত্তিন যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় ৯০ বছর পর আল আকসা মসজিদকে পুনুরুদ্ধারের সেই গৌরবজনক অধ্যায়। এই ৯০ বছর আল আকসা ছিল খ্রিস্টান ক্রুসেডারদের ঘোড়ার আস্তাবল, কোন আযান হয়নি, সালাত হয়নি।এই অডীও এর শেষের দিকে আলোচনা করা হয়েছে কেন মুসলিমদের বিশ্বজুড়ে খিলাফত প্রতিষ্ঠার মাত্র ৫০০ বছরের মাথায় এমন শোচনীয় অবনতি ঘটল, আর কিভাবেই হল এই রাতারাতি উত্থান।
    AtikIsrak 01:11:57 61 0 Downloads 0 Comments
AtikIsrak
  • AtikIsrak
  • profile viewed 309 times
  • message share profile
Who to Follow
X